এশিয়ার স্পট মার্কেটে চলতি সপ্তাহে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম আরো কমেছে। গত ১০ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে জ্বালানি পণ্যটির দাম। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ইউরোপের দেশগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কমে যাওয়ায় এশিয়ার বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত মজুদের কারণে নিম্নমুখী চাহিদাও জ্বালানি পণ্যটির দাম কমার অন্যতম কারণ। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় এপ্রিলে সরবরাহের জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য চলতি সপ্তাহে ছিল ১৩ ডলার ৫০ সেন্ট, যা গত ২০ ডিসেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন। গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১৪ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে।
ড্যাভেনপোর্ট এনার্জি পার্টনারসের চেয়ারম্যান টবি কপসন বলেন, ‘এশিয়ার বাজারে এলএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। সামনের মাসের জন্য কিছু দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বাজারে কোনো সংকট নেই।’
তিনি জানান, রাশিয়ার সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা ও স্পট চাহিদার অভাবে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মৌসুমি আবহাওয়ার কারণে মজুদ কমে না যাওয়া পর্যন্ত দাম আরো কমতে পারে।
ব্রেইনচাইল্ড কমোডিটি ইন্টেলিজেন্সের বাজার বিশ্লেষক ক্লাস ডোজম্যান বলেন, ‘চীন ও কোরিয়ার মতো আমদানিকারক দেশগুলোয় বর্তমানে এলএনজির পর্যাপ্ত মজুদ আছে। তবে মার্চের শুরুতে চীনে তাপমাত্রা কমতে পারে। তখন আমদানি কিছুটা বাড়াতে পারে দেশটি।
আর্গাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল্য সংবেদনশীল ক্রেতাদের জন্য বর্তমান দাম এখনো বেশি। ফলে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন ব্যতীত অঞ্চলটির বেশির ভাগ দেশ স্পট বাজারে সক্রিয় নয়। ভারতে চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সম্প্রতি কার্গো কেনার দরপত্র আহ্বান করেছে।’
এদিকে পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কমেছে। এছাড়া অঞ্চলটি মজুদ লক্ষ্যমাত্রাও শিথিল করতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে মার্টিন সিনিয়র জানান, উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে উষ্ণ তাপমাত্রার পূর্বাভাস এবং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনার গতি বাড়ার ফলে রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস গত বৃহস্পতিবার এপ্রিলের সরবরাহ চুক্তিতে নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) বাজার আদর্শে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম স্থির করেছে ১৩ ডলার ১২ সেন্টে। এছাড়া একই মাসের সরবরাহ চুক্তিতে টিটিএফে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজিতে ৬৪ সেন্ট ছাড় দেয়া হয়েছে।
আরগাস প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করেছে ১৩ ডলার ৩০ সেন্ট। অন্যদিকে স্পার্ক কমোডিটিজ ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে ১৩ ডলার ১৩ সেন্ট।
স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানান, গত শুক্রবার আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজির পরিবহন ব্যয় বেড়ে দৈনিক ১৯ হাজার ৭৫০ ডলারে পৌঁছেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ১৪ হাজার ২৫০ ডলারে।